Close

এক নজরে হিসাব বিজ্ঞানের সূত্র সমূহ

হিসাব বিজ্ঞান ব্যবসায় শিক্ষা শাখা বা বাণিজ্য বিভাগের খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয় পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হিসাব নিকাশ সংক্রান্তু যাবতীয় জটিলতা সমাধান করতে পারে। যেকোন হিসেব সহজে সমাধান করার জন্য হিসাব বিজ্ঞানের সূত্র সমূহ বেশ কার্যকরী ভূমিকা পলন করেন।

হিসাব বিজ্ঞানের সূত্র

আজকের পর্বে আমরা হিসাব বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ ৩০ টি সূত্র উপস্থাপন করলাম। যা নিম্নে প্রত্ত হলঃ-

  1. মালিকানাস্বত বা স্বত্বাধিকার =. (মালিকের বিনিয়োগ + ব্যবসায়ের আয় – ব্যবসায়ের খরচ – মালিকের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে উত্তোলন)।
  2. নগদ তহবিল বা নগদ উদৃত্ত্বের পরিমান বা সমাপনী নগদের পরিমাণ = (প্রারম্ভিক নগদ + নগদ প্রাপ্তি – নগদ প্রদান)।
  3. মোট মূলধন / মূলধনের পরিমান / নিট মূলধন / প্রকৃত মূলধন = ( প্রারম্ভিক মূলধন + অতিরিক্ত মূলধন বা মালিকের ব্যক্তিগত অর্থ দ্বারা ব্যবসায়ের জন্য সম্পত্তি ক্রয় + মালিকের অর্থ দ্বারা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর বেতন প্রদান বা অন্য যে কোনো খরচ) – ( উত্তোলন + আয়কর + জীবন বীমা প্রিমিয়াম)।
    অথবা, (মূলধন + সমন্বয়সংক্রান্ত মূলধন ও অতিরিক্ত মূলধনের সুদ +নিট লাভ) – (উত্তোলন ( নগদ , ব্যাংক হতে , আয়কর , জীবনবীমা প্রিমিয়াম , মালিকের যেকোনো খরচ কারবার হতে প্রদত্ত হলে , মালিক কর্তৃক ক্রয় মূল্য বা বিক্রয় মূল্যে পন্য উত্তোলন + সমন্বয়সংক্রান্ত উত্তোলনের সুদ -+নিট ক্ষতি) ।
  4. হিসাব সমীকরণ = যে সমীকরণের মাধ্যমে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার উপাদান সমূহের বা সম্পত্তি , দায়-দেনা ও মালিকানা স্বতের মধ্যকার সম্পর্ক প্রকাশ করে তাকেই হিসাব সমীকরণ বলা হয়। হিসাব সমীকরণকে আবার উদ্বর্তপত্র সমীকরণও বলে। হিসাব সমীকরণের সূত্র সমূহ
    মৌলিক হিসাব সমীকরণ : A = L + E, এর বর্ধিত রূপ হলঃ A = L + (C + R – E – D)
    এক মালিকানা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে মৌলিক_হিসাব_সমীকরণ : A = L + OE . (এখানে OE = Owner’s Equity).
    অংশীদারী ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে মৌলিক হিসাব সমীকরণ : A = L + PE. (এখানে PE = Partner’s Equity).
    কোম্পানির ক্ষেত্রে মৌলিক হিসাব সমীকরণ : A = L + Shareholders’ Eqity . (A=L+SE).
    হিসাব সমীকরণের ৩টি উপাদান: A = Assets (সম্পত্তি ), L = Liabilities (দায় ), E = Equity (মালিকানাস্বত)
  5. ধারে ক্রয় এর সূত্র = মোট ধারে ক্রয়কৃত পন্য – ক্রয় বাট্টা (যদি থাকে ) ।
  6. নগদে ক্রয়ের পরিমান নির্ণয় = নগদে ক্রয়কৃত পন্যের সমস্টি ।
  7. মোট ক্রয় নির্ণয় = নগদে ক্রয় + চেকে ক্রয় + বিলে ক্রয় + কার্ডে ক্রয় + বাকিতে ক্রয় + ক্রয় বাট্টা (যদি থাকে )।
  8. ক্রয় / নিট ক্রয় বা প্রকৃত ক্রয় = (মোট ক্রয় )- (ক্রয় ফেরত – ক্রয় বাট্টা – ক্রয় কমে করে এমন লেনদেন সময়হ, যেমন- মালিক কর্তৃক পন্য উত্তোলন , ভোক্তাদের বা শ্রমিকদের বিনামূল্যে পন্য বিতরণ )।
  9. ধারে বিক্রয় নির্ণয় = মোট ধারে বিক্রয়কৃত পন্য – বিক্রয় বাট্টা ( যদি থাকে )।
  10. মোট বিক্রয় = (নগদে বিক্রয় + চেকে বিক্রয় + বিলে বিক্রয় + কার্ডে বিক্রয় + বাকীতে বিক্রয়) – (বিক্রয় বাট্টা যদি থাকে )।
  11. বিক্রয় / প্রকৃত বিক্রয় বা নিট বিক্রয় = (মোট বিক্রয়) – (বিক্রয় ফেরত – বিক্রয় বাট্টা – বিক্রয় কমে এমন যে কোন লেনদেন)।
  12. ক্রয় বাট্টার পরিমান = পন্য ক্রয়ের সময় যে কারবারি বাট্টা পাওয়া যায় তার সমস্টি।
  13. বিক্রয় বাট্টা নির্ণয় = পন্য বিক্রয়ের সময় যে কারবারি বাট্টা পাওয়া যায় তার সমস্টি।
  14. প্রারম্ভিক মূলধনের পরিমাণ = (প্রারম্ভিক মোট সম্পদ – প্রারম্ভিক মোট দায়)।
  15. সমাপনী মূলধনের পরিমাণ = (সমাপনী মোট সম্পদ – সমাপনী মোট দায়)।
  16. লাভ ক্ষতি নির্ণয় = {(সমাপনী মূলধন + উত্তোলন ) – (প্রারম্ভিক মূলধন + অতিরিক্ত মূলধন)}।
  17. প্রত্যক্ষ খরচ সমূহ = {(প্রারম্ভিক মজুদ পন্য + নিট ক্রয় + ক্রয় পরিবহন + আমদানি শুল্ক + মজুরি ও বেতন + মজুরি + কয়লা ও গ্যাস + জ্বালানি খরচ + জলযান ভাড়া + কারখানা সংক্রান্ত খরচ + নগর শুল্ক / রাজ সেলামি + ডক চার্য + ড্রইং অফিস বেতন + কুলি খরচ + গুদাম ভাড়া বর্ণিত খরচ সমূহের সমন্বয় সংক্রান্ত বকেয়া খরচ) – (বর্ণিত খরচের সমন্বয় সংক্রান্ত অগ্রিম খরচ)}।
  18. পরোক্ষ খরচ সমূহ নির্ণয় = {(বেতন বা বেতন ও মজুরি + ভাড়া / অফিস খরচ + রপ্তানি শুল্ক + কারবারী খরচ + দফতর খরচ + অডিট ফি + নিরীক্ষা খরচ + কমিশন/ প্রদত্ত কমিশন + বাট্টা / প্রদত্ত বাট্টা + সুদ / প্রদত্ত সুদ + শিক্ষানবিস ভাতা + খাজনা ও কর + বীমা প্রীমিয়াম / বীমা সেলামি + সাধারণ খরচ + উপযোগ খরচ + আপ্যায়ন খরচ + অবচয় + কুঋণ / অনাদায়ী পাওয়া + ব্যাংক চার্জ + অবলোপন + দস্তরী + বর্ণিত খরচের সমন্বয় সংক্রান্ত বকেয়া খরচ সময়হ) – (বর্ণিত খরচের সমন্বয় সংক্রান্ত অগ্রিম খরচ / ব্যয়)}।
  19. পরোক্ষ আয় = (শিক্ষানবিস সেলামি + উপভাড়া + প্রাপ্ত ভাড়া + প্রাপ্ত সুদ + প্রাপ্ত বাট্টা + প্রাপ্ত কমিশন + বর্ণিত আয়ের বকেয়া আয় সমূহ + বর্ণিত আয়ের অগ্রিম আয় (সমন্বয়)।
  20. মোট ব্যয় / খরচের নির্ণয় = ( প্রত্যক্ষ খরচ / ব্যয় + পরোক্ষ খরচ / ব্যয় ) বা সকল প্রকার মুনাফা জাতীয় ব্যয়/ খরচ।
  21. মুনাফা জাতীয় ব্যয় = ( মোট প্রত্যক্ষ খরচ + মোট পরোক্ষ খরচ ) বা মোট খরচ।
  22. মুনাফা জাতীয় আয় = (বিক্রয় + উপভাড়া + প্রাপ্ত সুদ + শিক্ষানবিস সেলামি + বিনিয়োগের সুদ + প্রাপ্ত ভাড়া বা মোট আয় + প্রাপ্ত বাট্টা + প্রাপ্ত কমিশন + ব্যাংক জমার সুদ + প্রদত্ত ঋনের সুদ + লভ্যাংশ প্রাপ্তি + উত্তোলনের সুদ + পুরাতন খবরের কাগজ বিক্রয় + অনাদায়ী দেনা সমূহ আদায় ইত্যাদি ।
  23. মুনাফা জাতীয় আয় বা মোট আয় = ( প্রত্যক্ষ আয় + পরোক্ষ আয় অথবা অন্যান্য মুনাফা জাতীয় আয়। বিশদ আয় বিবরণী = ( মুনাফা জাতীয় আয় + মুনাফা জাতীয় ব্যয় )।
  24. স্থায়ী সম্পত্তি = (অবচয় যোগ্য সম্পদ + অবলোপন যোগ্য সম্পদ সমূহ।
  25. অবচয় যোগ্য সম্পত্তি = (দালানকোঠা , ইমারত, আসবাবপত্র , ভূমি ও দালানকোটা , যন্ত্রপাতি ও কলকন্জা , অফিস সরন্জাম, ঘোড়া ও গাড়ি)।
    অবলোপন যোগ্য সম্পত্তি = (সুনাম , ট্রেডমার্ক , ইজারা সম্পত্তি , প্যাটেন্ট ইত্যাদি)।
  26. মূলধন জাতীয় ব্যয় = (যে কোন স্থায়ী সম্পদ ক্রয় + সুদযুক্ত বিনিয়োগ সময় + টেলিফোন ও বিদ্যুতিক সংস্থাপন ব্যয় + নতুন সম্পত্তির সংস্থাপন ব্যয় + যন্ত্রপাতি মেরামত খরচ ইত্যাদি)।
  27. মূলধন জাতীয় প্রাপ্তি= (মালিক কর্তৃক প্রদত্ত মূলধন , স্থায়ী সম্পত্তি বিক্রয়লব্ধ অর্থ, ব্যাংক থেকে গৃহীত ঋণ)।
  28. মূলধন জাতীয় আয় = স্থায়ী সম্পত্তি বিক্রয় বাবদ প্রাপ্ত আয় ।
  29. মোট অস্পর্শনীয় / অদৃশ্যমান মূলধন জাতীয় খরচ = (সুনাম + ট্রেডমার্ক + প্যাটেন্ট + কপিরাইট ইত্যাদি।
  30. আবর্তক খরচ সমূহ = (মাল ক্রয় + টেলিফোন বিল + ক্রয় পরিবহন + বেতন ও মজুরি + বিদ্যুত বিল + পণ্য ক্রয়ের আমদানি শুল্ক ইত্যাদি খরচ)।

সমাপনী

হিসাব বিজ্ঞান মূলত জটিল কোন গাণিতিক সমস্যা না। সঠিকভাবে লেন-দেনগুলো চিহ্নিত করতে পারলে খুব সহজেই হিসাব বিজ্ঞান সমাধান করা সম্ভব। উপরোল্লেখিত সূত্রগুলো হিসাব বিজ্ঞান সমাধানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

আরো পড়ুন

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.